"ঋণের ফাঁদে জর্জরিত কৃষকের জীবন: কোথায় মুক্তির আলো?"

কৃষকের আত্মহত্যা: ঋণের ফাঁদে দুঃখগাথা

বাংলাদেশের কৃষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। এ দুঃখজনক বাস্তবতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় ঋণের দুষ্টচক্রকে। ঋণই কৃষকের সর্বনাশের শুরু চাষাবাদ শুরু করার আগেই কৃষককে হাত পাততে হয় ঋণের জন্য। 
সেই অর্থে তিনি রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও বীজ কিনে ফসল ফলানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু ফসল ঘরে ওঠার আগেই শুরু হয় কিস্তি পরিশোধের চাপ। আরও সমস্যা দেখা দেয় যখন দেশের প্রায় সব কৃষকের ফসল একসঙ্গে বাজারে আসে। সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারমূল্য কমে যায়, ফলে কৃষক বাধ্য হন লোকসানে বিক্রি করতে। এতে লাভ তো দূরের কথা, মূল ঋণ পরিশোধ করাই হয়ে পড়ে অসম্ভব।
 শুধু সার ও কীটনাশকে হাজার কোটি টাকার খরচ বাংলাদেশে কৃষকরা প্রতি বছর প্রায়: ৭০০ কোটি টাকার কীটনাশক ব্যবহার করেন (৪০,৪২২ টন), ১,৬৫০ কোটি টাকার রাসায়নিক সার (৫৫ লাখ টন, গড়ে ৩০ টাকা কেজি), এবং ৩,২০০ কোটি টাকার বীজ আমদানি করে চাষাবাদ চালিয়ে যান। শুধু সার ও কীটনাশকের পেছনেই খরচ হচ্ছে প্রায় ২,৩৫০ কোটি টাকা, যার বেশিরভাগই আসে ঋণ থেকে।
 এই খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক কৃষক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, আর শেষমেশ কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। বিকল্প পথে সাফল্য: অর্গানিক চাষ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকরা আজকাল রাসায়নিক নির্ভরতা ছেড়ে অর্গানিক চাষে মনোযোগ দিচ্ছেন। এতে তাদের: উৎপাদন খরচ অনেক কমে এসেছে, মাটি বিষমুক্ত থাকছে, এবং তারা ঋণের ফাঁদে পড়ছেন না। বাজার মূল্যের চেয়েও কিছুটা কম দামে পণ্য বিক্রি করেও তারা সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করছেন। 
 উপসংহার: বাংলাদেশের কৃষক সমাজের টিকে থাকার জন্য এখন সময় এসেছে বিকল্প কৃষি ভাবনার। রাসায়নিকনির্ভর চাষ থেকে ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক ও অর্গানিক চাষে রূপান্তরই হতে পারে তাদের মুক্তির পথ। ---

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভারতের ভাঙার প্রস্তাব: অস্ট্রিয়ার অর্থনীতিবিদ গুনথার ফেলিঙ্গারের বিতর্কিত মন্তব্য