কৃষকের গলার কাটা এখন আলু
কৃষকের গলার কাটা এখন আলু
আলুর মাঠে ফসল ফলেছে প্রচুর, কিন্তু হাসি নেই কৃষকের মুখে। কারণ? সেই পুরনো চিত্র—দাম নেই, খরচ ওঠে না, অথচ পরিশ্রম গেছে নদীতে। এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন হিমাগারে লাখ লাখ মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে, কিন্তু বাজারে বিক্রয়মূল্য কমে এসেছে উৎপাদন খরচেরও নিচে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি (৩০ এপ্রিল ২০২৫):
রাজধানী ঢাকায় প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২-১৪ টাকা দরে।
অথচ কৃষকের মাঠ থেকে আলু সংগ্রহ করতে খরচ পড়েছে কেজি প্রতি ১৬-১৮ টাকা।
অনেক হিমাগার এখনও আলু নিতে অনাগ্রহী, কারণ ভবিষ্যতে বাজার আরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
প্রান্তিক কৃষকরা বাধ্য হয়ে আলু ফেলে দিচ্ছেন, কেউ আবার গবাদিপশুর খাদ্য বানাতে শুরু করেছেন এই সবজি দিয়ে।
কৃষকের আর্তনাদ:
> “আমরা সার-ওষুধে দেনা করে আলু ফলাইছি। এখন আলু নিয়া হিমাগারেও ঢুকাইতে পারি না, বিক্রিও করতে পারি না। এত খাটাখাটনির ফল এই হাহাকার, এই দুঃখ!” —জয়পুরহাটের এক কৃষক।
কারণসমূহ:
সরকারের পর্যাপ্ত বাজার মনিটরিংয়ের অভাব
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য
কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হওয়া
রপ্তানির সুযোগ অপ্রতুল ও নীতিগত জটিলতা
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
সরকারের তরফ থেকে আলু কিনে খাদ্য সংরক্ষণ বা রপ্তানি উদ্যোগ
কৃষকের জন্য ভর্তুকি এবং সহায়তা প্যাকেজ
বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সহজ নীতিমালা

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন