ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুর-ডোবায় ফেলা হচ্ছে কৃষকের কষ্টের আলু


শিরোনাম: ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুর-ডোবায় ফেলা হচ্ছে কৃষকের কষ্টের আলু



প্রতিবেদক: ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
তারিখ: মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

ঠাকুরগাঁও জেলায় চরম সংকটে পড়েছেন আলু চাষিরা। হিমাগারে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণ করতে না পেরে বস্তায় বস্তায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে পুকুর-ডোবায় কিংবা রাস্তার ধারে। এতে একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা, অন্যদিকে মানসিক চাপে ভুগছেন অনেকেই।

জেলার সদর উপজেলার ঢোলারহাট, আঁকচা, নারগুনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রান্তিক কৃষকরা কেউ কেউ বাড়ির পাশে কাঠ বা টিনের সেড তৈরি করে আলু সংরক্ষণের চেষ্টা করেছেন। তবে দুই মাস পার হতে না হতেই পচন ধরে গেছে বেশিরভাগ আলুতে।

কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা দাম পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে দাম কমে যায় এবং হিমাগারে জায়গা না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকেও কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও অভিযোগ তাদের।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন। অথচ জেলার ১৭টি হিমাগারের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা মাত্র দেড় লাখ মেট্রিক টন। ফলে অধিকাংশ আলুই থেকে যাচ্ছে সংরক্ষণের বাইরে।

স্থানীয় আলু ব্যবসায়ী মোরশেদ আলম, আবু রায়হানসহ অনেকে জানান, সরকারি উদ্যোগে আলু রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে এ সংকট অনেকটা কাটানো যেতো।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, “কৃষকেরা লাভের আশায় অতিরিক্ত আলু আবাদ করেছে। আমরা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু সকলের আলু সংরক্ষণ সম্ভব নয়।”

কৃষকেরা সরকারের কাছে দ্রুত হিমাগার সংখ্যা বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং আলু রপ্তানির উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। না হলে আগামী মৌসুমে আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন অনেক চাষি।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভারতের ভাঙার প্রস্তাব: অস্ট্রিয়ার অর্থনীতিবিদ গুনথার ফেলিঙ্গারের বিতর্কিত মন্তব্য